Ticker

6/recent/ticker-posts

মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় ?মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার নিয়ম ?

বন্ধুরা আপনাদের এই সাইটে স্বাগতম । আজকে আমরা জানতে চলেছি --

১.মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়গুলো

২.মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার নিয়ম গুলো

মোবাইল ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর ব্যাটারি। যদি ব্যাটারি সঠিকভাবে চার্জ করা না হয় তাহলে অতি দ্রুত তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট আয়ু থাকে। ফোন ব্যবহারের ওপর ব্যাটারির আয়ু অনেকাংশ নির্ভর করে। তাই ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখার কিছু উপায় জেনে রাখা ভালো।



ফোনে সবসময় চার্জ রাখতে হবে।

মোবাইল ফোনে বেশি করে চার্জ রাখুতে হবে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে অধিকাংশ সময় ৫০ শতাংশ বা তার বেশি চার্জ রাখতে হবে। অর্থাৎ চার্জ ৫০ শতাংশ হয়ে গেলে পুণরায় চার্জে দিতে হবে। এতে করে ব্যাটারি ভালো থাকবে বেশিদিন।


চার্জার ব্যবহার এ সাবধানতা অবলম্বন করুন

যে ফোনের জন্য যে চার্জার নির্ধারিত, সেটাই ব্যবহার করা শ্রেয়। চার্জার সঙ্গে না থাকলে অন্য চার্জার ওই ফোনের জন্য প্রযোজ্য কি না দেখে নিন। নকল চার্জার অবশ্যই ব্যবহার করবেন না।


ফোনে চার্জ ফুল রাখুন

ব্যাটারির ফুল চার্জ একেবারে নিঃশেষ করে আবার চার্জ দেওয়া যাবে না। কারণ এতে ব্যাটারির আয়ু কমে যেতে থাকে। শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত ব্যাটারি রিচার্জ হয়াকে “চার্জ সাইকেল” বলে। মাসে অন্তত একবার চার্জ সাইকেল পূর্ণ করতে পারেন। এতে ব্যাটারির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।


দোকান থেকে সস্তা চার্জার কিনবেন না



ফোনের জন্য নির্ধারিত চার্জারটি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে অনেকেই বাজার থেকে সস্তা ও অখ্যাত ব্র্যান্ডের চার্জার কিনে থাকেন। এসব চার্জারের ব্যবহারের জন্য ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এছাড়াও চার্জ হতেও সময় বেশি নেয়। আর অ্যাডাপ্টারে সমস্যা দেখা দিলে ফোন ও ব্যাটারি দু’টোই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।


মোবাইল ফোন যততা সম্ভব ঠান্ডা রাখুন

ফোন যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা রাখুন। লি-আয়ন ব্যাটারি বেশি চার্জ হলেও কোনো সমস্যা হয় না। তবে ফোনটি যেখানে চার্জ দিচ্ছেন বা রাখছেন, সে জায়গা যেন অতিরিক্ত গরম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এতে ফোন অতিরিক্ত গরম হতে পারে। ফোন আবার অতিরিক্ত ঠাণ্ডা জায়গায় রাখাও ঠিক নয়। খুব বেশি ঠাণ্ডা বা অতিরিক্ত গরম ব্যাটারির কার্যক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে।


ব্লুটুথ, ওয়াইফাই জিপিএস বন্ধ করে রাখুন

প্রয়োজনের বাইরে কখনো ব্লুটুথ, ওয়াইফাই চালু করে রাখবেন না। এতে করে ব্যাকগ্রাউন্ডে বা প্রসেসরে বেশি করে শক্তি খরচ হয়। ফলে চার্জ যায় বেশি। এছাড়াও ফোনে জিপিএস বন্ধ করে রাখুন।


ভাইব্রেশন ও অপ্রয়োজনীয় সাউন্ড বন্ধ রাখতে হবে

প্রয়োজন ছাড়া ফোনের ভাইব্রেশন চালু রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। আর বিভিন্ন অ্যাপ বা সেটিংস থেকে অপ্রয়োজনীয় সাউন্ড অফ করে রাখুন। এতে চার্জ কম খরচ হয়।


ফোনের কেস বা ব্যাক কভার খুলে রাখুন

ফোন চার্জে দেওয়ার সময় ব্যাটারি কিছুটা গরম হয়ে যায়। ব্যাটারি গরমের প্রভাব ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ফোনকে অতিরিক্ত গরমের হাত থেকে রক্ষা করতে চার্জে থাকা অবস্থায় ফোনের ভালোর জন্য কেসিং বা কভার খুলে রাখা উচিত।



সারারাত ধরে মোবাইল ফোন চার্জে দেবেন না

আমরা অনেকেই রাতেরবেলা ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে যাই। ফোনটি সারারাত ধরে চার্জ হলে সেটা ওভার চার্জিং হয়ে যায়। ফোনের জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর। এছাড়া সারারাত ফোনে চার্জে দেওয়ার ফলে ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।


মোবাইল ফোনে অ্যানিমেশন বন্ধ রাখুন

আপনি কি জানেন আপনার ফোনের কিছু ফ্ল্যাশি এনিমেশন আপনার ফোনের ব্যাটারি লাইফ কমিয়ে দিতে পারি। আগে এগুলো অফ করা না গেলেও এখন আপনি সেগুলো অফ করতে পারবেন।


মোবাইল ফোনে কাজ শেষ হলে অ্যাপ বন্ধ রাখুন

বেশিরভাগ সময়ই আমরা কাজের শেষে অ্যাপ বন্ধ না করে মিনিমাইজ করে রাখি। এটি ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়। তাছাড়া এমন কিছু অ্যাপ আছে যেগুলোতে বেশি চার্জ লাগে। তাই এগুলো বন্ধ রাখুন।



ব্রাইটনেস যততা সম্ভব কমিয়ে রাখুন

ফোনে সবসময়ই বেশি ব্রাইটনেসের প্রয়োজন হয় না। তাই যখন ব্যবহার করবেন না তখন ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখলেই চলে। খুব বেশি ফোন ব্যবহারের সময় ব্রাইটনেস ৫০ শতাংশের এর নিচে রাখা ভালো। এতে চার্জ থাকবে বেশিক্ষণ।


মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার নিয়ম 

১. মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার সঠিক সময়?

একটি স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সঠিক সময় তখন, যখন ব্যাটারিতে ৫০% এর থেকে কম পরিমানে চার্জ থাকবে। মোবাইলে ৫০% থেকে ৯০% চার্জ সবসময় বজায় রাখা উচিৎ। ৫০% থেকে কমে গেলে চার্জ দিতে হবে।

মনে রাখবেন, ৯০% -৯৫% থেকে বেশি চার্জ দেওয়া যাবে না। ৯০% ব্যাটারী চার্জ হয়ে যাওয়ার পর চার্জার খুলে দিতে হবে।

২. চার্জের পরিমান ২০% এর থেকে কমতে দেওয়া যায় না।

হঠাৎ করে “low battery signal“ দিলে তখনই মোবাইল চার্জ দেওয়ার কথা মনে পড়ে এটাই স্বাভাবিক। আর তখন চার্জ ২০% থেকেও আরও বেশি কমে যায়। এভাবেই ৫৫% লোকেরা নিজেদের মোবাইলের ব্যাটারির কার্য ক্ষমতা দিনের পর দিন নষ্ট করে চলেছে।

মনে রাখবেন, যখন মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ ২০% এর থেকেও কম থাকে, তখন মোবাইল দুর্বল হয়ে যায়। দিনের পর দিন ২০% এর থেকেও কম চার্জ থাকা অবস্থায়, ভারী ভারী গেমস অথবা apps মোবাইলে ব্যবহার করলে ব্যাটারি খারাপ হয়ে যায়।

৩. ১০০% ব্যাটারি চার্জ দেওয়া উচিৎ কী?

না, তবে দিলেও সব সময় ১০০% অব্দি চার্জ দেওয়া যাবে না। যে কোনও স্মার্টফোনে সম্পূর্ণ ১০০% চার্জ না দিয়ে, ৯০% থেকে ৯৫% অব্দি চার্জ দিলে, মোবাইল ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে, মাসে একবার সম্পূর্ণ ০% থেকে ১০০% ফুল চার্জ দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার সাহায্যে “battery recalibrate” হবে।

৪. মোবাইল চার্জে দিয়ে ফোন ব্যবহার করবেন না।

একটি স্মার্টফোন যখন চার্জে দেওয়া হয় তখন সেটা কখনই ব্যবহার করবেন না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্মার্টফোন চার্জে দিয়ে গেম খেলার সময় মোবাইলের ডিসপ্লে, প্রসেসর এবং অন্যান্য অংশতে, ব্যাটারির থেকেই power ব্যবহার হতে থাকে।

এতে, ব্যাটারির চার্জের বর্তমান ব্যবহার এবং চার্জারের সরবরাহ করা চার্জের পরিমানের মাঝে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। ফলে, মোবাইলের ব্যাটারি সাংঘাতিক বেশি পরিমানে গরম হয়ে যায়।

৫. প্রোয়োজনে Battery optimization apps ব্যবহার করুন

আমাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে প্রায়শয় প্রত্যেক সময়, কিছু না কিছু apps কাজ করতেই থাকে। তাছাড়া, অনেক background functions, যেগুলির কোনো দরকার নেই, মোবাইলের চার্জকে ব্যবহার করতে থাকে। তাই, অনেক রকমের ভালো android mobile battery optimization apps আছে, যেগুলি ব্যবহার করে আপনি background এ ব্যবহার হওয়া চার্জের পরিমান কমিয়ে দিতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments